আজ শরৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২৪ PM, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর শরৎ চট্টোপাধ্যায়ের
জন্মদিন। ১৮৭৬ সালের তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের হুগলি জেলায় দেবানন্দপুরের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে এক বড় দারিদ্র্যপীড়িত ব্রাক্ষ্মণ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতা ছিলেন ভবঘুরে। তাদের সংসারে দরিদ্রতা ছিলো আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা।

স্কুলের বেতন দিতে না পারায় তাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছিলো তাকে। শরৎচন্দ্রের পড়ার আগ্রহ দেখে তার মামা পাঁচকড়িবাবু অবশেষে শরৎচন্দ্রকে তাদের স্কুলে ভর্তি করে নিয়েছিলেন। শরৎচন্দ্রের ছোটমামা স্থানীয় মহাজন গুলজারীলালের কাছে হ্যান্ডনোট লিখে টাকা ধার নিয়ে স্কুলের বেতন পরিশোধ করলেন। স্কুলটা পাস হলো। কিন্তু দরিদ্রতার কারণে কলেজ ভর্তি হতে পারলেন না।

শরৎচন্দ্রের পড়া হবে না দেখে মণীন্দ্রনাথের মা কুসুমকামিনী দেবীর বড় মায়া হলো। তিনি তার স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে, তাদের দুই ছোট ছেলেকে পড়াবার বিনিময়ে শরৎচন্দ্রের কলেজে ভর্তি হওয়ার এবং কলেজে প্রতি মাসে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। এর ফলে শরৎচন্দ্র কলেজে ভর্তি হতে সক্ষম হলেন।

শরৎচন্দ্র রাত্রে মণীন্দ্রনাথের ছোট দু ভাই সুরেন্দ্রনাথ ও গিরীন্দ্রনাথকে পড়াতেন। কলেজে পড়ার সময় শরৎচন্দ্র টাকার অভাবে কলেজের পাঠ্য বইও কিনতে পারেননি। সহপাঠী বন্ধুদের কাছ থেকে বই চেয়ে এনে রাত জেগে পড়তেন এবং সকালেই বই ফেরত দিয়ে আসতেন। কলেজে এইভাবে দু বছর পড়লেন শেষে অর্থাভাবে আর এগোতে পারলেন না, শিক্ষাজীবনের ইতি টানলেন।

শরৎচন্দ্র কেবল সাহিত্যিক লেখক ছিলেন না। তিনি গায়ক, বাদক, অভিনেতা ও চিকিৎসকও ছিলেন। তার চরিত্রে আরও অনেকগুলি গুণ ছিল। তার চরিত্রের যে বৈশিষ্টটি সবার আগে চোখে পড়ে, তা হলো- মনেপ্রাণে তিনি ছিলেন একজন দরদী মানুষ। মানুষের, এমন কী জীবজন্তুর দুঃখ-দুর্দশা দেখলে বা তাদের দুঃখের কাহিনী শুনলে, তিনি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়তেন। অনেক সময় এজন্য তার চোখ দিয়ে জলও গড়িয়ে পড়ত।

জীবজন্তুর প্রতি স্নেহবশত শরৎচন্দ্র বহু বছর সি.এস.পি.সি.এ. অর্থাৎ কলকাতা পশুক্লেশ নিবারণী সমিতির হাওড়া শাখার চেয়ারম্যান ছিলেন। এক সময় অবশ্য তিনি একজন ছোটখাটো শিকারিও ছিলেন। তখন ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে এবং বন্দুক নিয়ে পাখি শিকার করতে তিনি বিশেষ পটু ছিলেন। পরে এসব ছেড়ে দেন। তিনি বরাবরই দক্ষ সাঁতারু ছিলেন।

অপারেশন হয়েছিল ১২ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে। এর পর শরৎচন্দ্র মাত্র আর চারদিন বেঁচে ছিলেন। তার মৃত্যুর দিনটা ছিল রবিবার, ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি (বাংলা ১৩৪৪ সালের ২রা মাঘ)। এই দিনই বেলা দশটা দশ মিনিটের সময় শরৎচন্দ্র সকলের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬১ বছর ৪ মাস। হিরণ্ময়ী দেবী তার স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় ২৩ বছর বেঁচে ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :