উপজাতি দের আদিবাসী বলায় প্রতিবাদ

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:২৯ PM, ১০ অগাস্ট ২০২০

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের নেতা শাহাদাৎ ফরাজী সাকিবের পরিচালনায় নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সংবিধান মোতাবেক দেশে কোন আদিবাসী নেই, কিন্তু উপজাতীয়দের একটি অংশ দেশ ভাগের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নিজেদের আদিবাসী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি রাষ্ট্রের জন্য অনেক বড় বড় একটি অশনি সংকেত। তিনি তার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অনলাইনে ঝুমের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, কাজী মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি শেখ আহম্মেদ রাজু, আবদুল হামিদ রানা,উপস্থিত ছিলেন নাগরিক পরিষদের সহ-সভাপতি এডভোকেট পারভেজ তালুকদার, সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ,সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ সংযুক্ত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, পার্বত্য জেলার সর্বত্রই এখন উপজাতীয়দের একক কর্তৃত্ব বিরাজমান। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে, শিক্ষা, চাকরি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা- বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সর্বক্ষেত্রে সুদীর্ঘকাল ধরে বসবাসকারী বাঙালীরা প্রতিনিয়ত চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ক্রমশ বাঙালীরা পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে। বৃহৎ জনগোষ্ঠী বাঙালীদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমতিরি সদস্যরা প্রতিদিনই স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে হত্যা, ঘুম ও অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও ২০০০ সালের পর থেকে সন্তু লারমা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করে রাজা দেবাশীষকে সাথে নিয়ে নতুন এক খেলায় মেতে উঠেছে। আর তা হল ৫০৯৩ বর্গ কিঃ মিঃ পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড গঠনের স্বপ্ন। তা বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের আসল পরিচয় বাদ দিয়ে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবি নিয়ে মাঠে রাষ্ট্রীয় পদে থেকে তিনি রাষ্ট্র ও সংবিধান বিরোধী বক্তব্য বলে যাচ্ছেন অথচ তাকে কেউই কিছুই বলছেন না।
এতে আরো বলা হয়, উপজাতীদেরকে ‘আদিবাসী’ বলে তিনি সংবিধানের ২৩(ক) ধারা তথা সংবিধান অবমাননা করেছেন। বাঙালীদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ‘স্যাটেলার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা খুবই দুঃখজনক।এ দেশের উপজাতীরা বিভিন্ন দেশ থেকে এ দেশে এসেছে, সুতরাং এরা পূর্নবাসিত, বাঙ্গালীরা নয় ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সকল দেশের সংবিধান বলে দেয়, দেশ ও দেশের মানুষ কিভাবে চলবে। সংবিধানেই রীতি-নীতি, আইন-কানুন লিপিবদ্ধ থাকে। যদি কেউ আইন-আদালত না মানে, দলিল বা চুক্তিপত্র না মানে তাহলে সেখানে দ্বন্দ্ব-সংঘাত অনিবার্য। আর সংঘাতের পথ দেখিয়ে দেয়া কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষে খুবই বেমানান। তারা নিজেরাও স্বীকার করবেন যে, ‘আদিবাসী’ বিষয়টি নতুন একটি দাবি।
কেননা ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে (ক) সাধারণ অংশে ১নং উপধারাতে বলা হয়েছে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল বলা হবে।(খ) নং ধারার ১নং উপধারায় বলা হয়, ‘উপজাতি শব্দটি বলবৎ থাকিবে।সেখানেতো আদিবাসী শব্দটি একবারও উল্লেখ করা হয়নি। এখন প্রশ্ন আসে চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে কি তারা তাদের আত্ম পরিচয় ভুলে গিয়েছিলেন? আসলে তারা চুক্তি অনুযায়ী উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পদ বা কর্তৃত্ব নিয়ে পার্বত্য এলাকাকে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই একটি ধাপ হলো, আদিবাসী ইস্যু।
ভাবতে হবে, আসলে আদিবাসী ও উপজাতি নৃতাত্ত্বিক (Anthropological) দৃষ্টিভঙ্গিতে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিভাষা। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল অঞ্চলে প্রায় ৩০/৩২টি উপজাতি বসবাস করে। কিন্তু কোনটিই নৃতাত্ত্বিক বা জাতিতাত্ত্বিক, ভাষাতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক অথবা অন্য কোন বিবেচনায় বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ‘আদিবাসী; হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে না। নৃতাত্ত্বিক সংজ্ঞায় আদিবাসী (Indigenous) বা অকৃত্রিম ভূমিপুত্র হল কোন স্থানে স্মরণাতীত কাল থেকে বসবাসকারী আদিমতম জনগোষ্ঠী, যাদের উৎপত্তি ও ছড়িয়ে পড়া এবং বসতি স্থাপন সম্পর্কে বিশেষ কোনো ইতিহাস জানা নেই। তাদেরকে ‘আদিবাসী’ বলা হয়।
আভিধানিকভাবে আদিবাসী শব্দরে র্অথ- দেশি, স্বদেশজাত বা ভূমিপুত্র। একইভাবে বাংলা একাডমেরি অভিধানে Indigenous শব্দরে র্অথ বলা হয়েছে- দেশি, দৈশিক, স্বদেশীয়, স্বদেশজাত। কোলকাতা থেেক প্রকাশিত সংসদ অভিধানে Indigenous শব্দরে র্অথ হিসেবে বলা হয়েছে স্বদেশজাত, দেশীয়। অন্যদিকে নৃতাত্তিক সংজ্ঞায় আদিবাসী হচ্ছে- কোনো অঞ্চলরে আদি ও অকৃত্রিম ভূমিপিুত্র বা Son of the Soil. প্রখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ মর্গানের সঙ্গানুযায়ী- ‘আদবিাসী হচ্ছে কোনো স্থানে স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাসকারী আদিমতম জনগোষ্ঠী যাদরে উৎপত্তি, ছড়িয়ে পড়া এবং বসতি স্থাপন সর্ম্পকে বিশেষ কোন ইতিহাস জানা নেই’।
সর্বশেষে, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশে নৃতাত্ত্বিক বাংলা ভাষা ভাষী বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এখানকার প্রকৃত আদিবাসী। উপজাতীয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আগন্তুক ও অভিবাসিত। ভিন্ন অঞ্চলের নবাগত জাতিসত্ত্বা। তবুও তারা বাংলাদেশী। আমাদের সমান অংশীদার। এনজিও চক্রের- ‘আদিবাসী অধিকার’, ‘আদিবাসী পুনর্জাগরণ’, ‘আদিবাসী পুনর্বাসন’, ‘আদিবাসী সংরক্ষণ’ ইত্যাদি হাক-ডাক মূলত: তাদের চিরায়ত নীল নকশা ও ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

আপনার মতামত লিখুন :