কারিগর বদলাতে হবে এবার

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৫৪ PM, ২৪ জুলাই ২০২০

বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আমাদের দেশের নদীগুলোর উজান অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়। ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় থেকে এই বন্যা হয়ে আসছে। বন্যা না হলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না। এখন থেকে প্রায় ২০ হাজার বছর আগে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে যে পলি এসেছে, সেই পলি দিয়ে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত হয়েছে। কাজেই বর্ষার সময় নদীর পানি দুই কূল পূর্ণ করে অথবা কোনো বছর দুই কূল উপচে প্রবাহিত হবে এটাই স্বাভাবিক

১৯৫৪-৫৫ সালে ব্যাপক বন্যা হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ক্রুগ মিশন গঠন করা হয় এবং ওই মিশনের প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য হলো- বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এখানে দুর্ভিক্ষ হবেই। সে জন্য তারা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলে। পরে ১৯৬৪ সালে মহাপরিকল্পনাটি প্রণীত হয়। আমরা আজও ১৯৬৪ সালের ধারায় চলছি। ১৯৬৪ সালের পরিকল্পনায় বলা হয়- বাঁধ নির্মাণ করে বন্যার পানি ঠেকাতে হবে। ভেতরের পানি স্লুইসগেট বা রেগুলেটরের মাধ্যমে বের করতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে তখন জনসংখ্যা ছিল চার থেকে পাঁচ কোটি। এখন জনসংখ্যা ১৮-১৯ কোটি। সুতরাং এখন আর ১৯৬৪ সালের চিন্তাধারা চলতে পারে না। এখন একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিশন গঠন করা দরকার। সরকারের যে কর্মকর্তারা টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন, তাদের এ দায়িত্ব দিতে হবে। কারণ বন্যা হলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়, কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, জীবিকা থাকে না, স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এগুলো সবই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১৭টি লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। এই কমিটিকে স্থান, কাল এবং কারণভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :