কুড়িগ্রামের হাজার হাজার মানুষ বিপর্যস্ত বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে।

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৪৭ PM, ২৪ জুলাই ২০২০

একদিকে ভাঙন আর অন্যদিকে পানিবন্দী অবস্থায় চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘ প্রায় একমাস ধরে ঘরবাড়ি ছাড়া পানিবন্দী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নিরব খাদ্যাভাব। তিনবেলার জায়গায অনেকে দুবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। বানভাসীরাসহ জনপ্রতিনিধিরাও ত্রান সংকটের কারণে বিপাকে পরেছেন।

এদিকে বন্যার ফলে পানিতে ডুবে মারা গেছে ২০জন। এরমধ্যে ১৫জন শিশু। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন ডা: হাবিবুর রহমান। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টানা প্রায় একমাস ধরে দুর্ভোগে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। অপরদিকে তিস্তা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে প্রচন্ড ভাঙন।

মাঝখানে ২ থেকে ৩ দিন পানি কমে গেলেও গত এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদীর পানি আবারো হু-হু করে বাড়ছে। শুক্রবার সকালে ধরলা নদীর পানি ব্রীজ পয়েন্টে ৮৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফা জানান, আমরা ত্রান সঠিকভাবে পাচ্ছি না, যেভাবে পাওয়া উচিৎ জনগণ সেভাবে পাচ্ছে না। এই মূহুর্তে শুকনো খাবার, স্যানিটেশন, পানি ও ঔষধের ভীষণ প্রয়োজন।

অপরদিকে ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারীতে ৭৪ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বন্যায় জেলার ৯টি উপজেলার পাঁচ ভাগের তিনভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এতে ৬০ ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক গ্রামের সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। এতে ৫০ হাজার বাড়িঘর বিনস্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ হাজার হেক্টর ফসলী জমির ক্ষেত। বন্যায় ৫টি স্কুল ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো ১৩৯টি। এছাড়াও ৩৭ কিলোমিটার সড়কপথ ও ৩১ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার।

এছাড়াও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার সংকটম স্যানিটেশন ও পানির প্রয়োজনীয়তা। এছাড়াও জরুরী ঔষধের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :