কোন জাতীয় খাবারের জন্য ফ্রিজের কোন অংশ ব্যবহার করতে হবে?

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:১১ PM, ২০ জুলাই ২০২০

১। কাঁচা মাছ ও মাংসঃ

সাধারণ কাঁচা মাছ ও মাংস রাখতে ফ্রিজের ডিপ অংশ ব্যবহার করা উচিত। কাঁচা মাছ, মাংস অবশ্যই ১ ডিগ্রির কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। কাঁচা মাছ, মাংস এবং পোলট্রি প্রডাক্ট বাকি খাবারের সঙ্গে রাখা যাবেনা কারণ অনেক সময় এগুলো থেকে পানি বের হয়। আর এই পানি বাকি খাবারে মিশে গিয়ে বিষক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। ফ্রিজে মাংস রাখার আগে অবশ্যই সেগুলো ভালো করে ধুয়ে একদম পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। এর ফলে মাংসে বাজে গন্ধ হবে না এবং অনেকদিন পর্যন্ত সতেজ থাকবে, স্বাদ থাকবে অক্ষুণ্ণ।

২। ফল এবং সবজিঃ

ফ্রিজে রাখা মাত্র বিশেষ কিছু ফল যেমন কলা, জাম, নাশপাতি এবং টমেটোর শরীর থেকে ইথাইলিন গ্যাস বের হয়, যা টাটকা সবজিকে তাড়াতাড়ি নষ্ট করে দিতে পারে তাই এসব ফল ফ্রিজে না রাখাই ভালো। একইভাবে বিভিন্ন সবজির শরীর থেকেও ইথাইলিন গ্যাস বের হয় যেমন ব্রকলি, গাজর, শসা, বেগুন, মটরশুঁটি, লেটুস প্রভৃতি। ফ্রিজের গায়ের সঙ্গে লাগিয়ে বিশেষ করে কোনো রকমের তাজা ফলমূল বা সবজি একেবারেই রাখা ঠিক না। সবজি বা ফল এয়ার টাইট কনটেইনারেও রাখা যাবে না।  সবজি পলিথিনের ব্যাগে না রেখে কাগজের প্যাকেটে কিংবা খবরের কাগজ দিয়ে মুড়ে রাখা যেতে পারে ফলে এগুলো অনেকদিন পর্যন্ত সতেজ থাকবে। অন্যান্য কিছু সবজি একটু ভিন্নভাবে রাখতে হয় যেমন : মরিচের বোঁটা ফেলে কাচের বয়ামের মধ্যে রাখলে তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভালো থাকে।  এছাড়া শাক কুটে ও ধনে পাতা গোড়াসহ রাখলে ভালো থাকে। সংরক্ষণ উপযোগী মৌসুমি সবজি সিদ্ধ করার পর বিভিন্ন বক্সভর্তি করে ফ্রিজে রাখা যায়। এতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সবজিগুলোর গুণগতমান ভালো থাকবে। আর মৌসুম শেষে সেগুলো রান্না করে খাওয়া যাবে।

৩। ফলের রস, সস, জ্যাম, পানি ও ইনসুলিনঃ

দরজার একেবারে নিচের তাকে অর্থাৎ যেখানে তাপমাত্রা সব সময় ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকে সেখানে ফলের রস, সস, জ্যাম, পানি এবং ইনসুলিন জাতীয় ওষুধ রাখা উচিত।
৪। ঘি ও মাখন:
অনেকদিন ভালো রাখার জন্য ঘি ও মাখন ফ্রিজে রাখা যেতে পারে পারেন । তবে দুটি খাবারই একদম এয়ার টাইট পাত্রে রাখা দরকার।
৫। আইসক্রিম ও প্যাকেটজাত ফ্রোজেন ফুড:

আইসক্রিম ও প্যাকেটজাত ফ্রোজেন ফুড যেমন: রোল, সিঙ্গারা, সমুচা, পিঠা ইত্যাদি ফ্রিজে রাখার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। এগুলো ফ্রিজের ডিপ অংশে রাখা যাবে তবে তাপমাত্রার সামান্য হেরফেরে এই খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাই এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকা দরকার।

৫। দুধ ও টক দইঃ

অল্প সময়ের জন্য দুধ রাখতে ফ্রিজের নিচের তাকে যেখানে তাপমাত্রা ১-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কাছাকাছি রাখা বেশী উপযুক্ত। এখানে দুধ বা দই রেখে দেওয়ার পর খাওয়ার কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে বের করে নিলে দুধের গুণগত মান নষ্ট হয় না। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য টক দই ডিপ ফ্রিজে রাখা উচিত।

৬। রান্না করা খাবারঃ

রান্না করা খাবার ফ্রিজের নরমাল অংশের ওপরের তাকে রাখা যাবে। রান্না করা গরু, খাশি বা মুরগির মাংস, মাছ এবং সিদ্ধ ডিম ফ্রিজে ৩-৪ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। মনে রাখতে হবে রান্না করা খাবার কখনই ৪ দিনের বেশি ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়।

৭। কাটা পেঁয়াজ ও বাটা মসলা

ফ্রিজে কাটা পেঁয়াজ রাখতে চাইলে পেঁয়াজ একটি এয়ার টাইট বক্সে রেখে সামান্য লবণ ছিটিয়ে দিতে হবে। তারপর বক্সটি মুখ বন্ধ করে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নিতে হবে। এছাড়া বাটা মসলা ফ্রিজে রাখতে চাইলে তা বক্সভর্তি করে রাখা উচিত।

৮। ডিমঃ

বেশিরভাগ ফ্রিজেই ডিম রাখার জন্য আলাদা জায়গা থাকে। ফ্রিজে ডিম রাখার সময় মোটা অংশটি নিচের দিকে ও সরু অংশটি ওপরে রাখা ভালো। ডিম হাতলে না রেখে বাটিতে করে ফ্রিজের ভেতরে রাখা উচিত।  

আপনার মতামত লিখুন :