কোরবানি নিয়ে সংকট।

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৫৮ PM, ৩০ জুলাই ২০২০

 

এবার কোরবানি নিয়ে এমনই উভয়সংকটে পড়েছেন রাজধানীর বহু মানুষ। বিশেষ করে ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বেশি। করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে গিয়ে কোরবানি নিয়ে বেশিরভাগ আবাসনে সতর্কতামূলক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম ফ্ল্যাটের বাড়িগুলোতে এ ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও বড় আকারের আবাসনে কড়াকড়ি যথেষ্টই। ফলে এবার রাজধানীর বেশিরভাগ ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দাদের পক্ষে কোরবানি দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের ২ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বর সড়কের বাসিন্দা হাসিবুর রহমান প্রতিবার তিনটি পশু কোরবানি দেন- একটি খাসি ও দুটি গরু। এবার কেবল একটি গরু কোরবানি করবেন। তাও বাসার গ্যারেজে নয়, গাজীপুরে থাকা নিজের কৃষিজমিতে। হাসিবুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি জানান, তার ভবনে যত ফ্ল্যাট মালিক বাস করেন, প্রায় সবাই প্রতিবছর এক বা একাধিক পশু কোরবানি দেন। এবার কয়েকজন কোরবানিই করছেন না। অন্যরা কয়েকজন মিলে একটি গরু কোরবানি দেবেন। করোনার স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পশু কোরবানি দেওয়া সত্যিই খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ চিত্র কেবল হাসিবুর রহমানের বাসভবনের ক্ষেত্রেই নয়- কমবেশি প্রায় সবার কাছেই এবার কোরবানি করাটা দুরূহ হয়ে উঠেছে। অনেকে কোরবানির সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে কোরবানি থেকে বিরত থাকছেন। রাজধানীর হাতিরপুলের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি ভবনে ফ্ল্যাটের সংখ্যা ২৭। ওই ভবনে একজন ফ্ল্যাট মালিক আসমাউল হুসনা জানান, কয়েক দিন আগে কোরবানি নিয়ে তাদের ভবনের পরিচালনা কমিটির একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অন্যবারের মতো এবার ভবনের গ্যারেজে কোনো কোরবানির পশু জবাই করা ও মাংস বানানো যাবে না। বাধ্য হয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠিয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কোরবানিতে শরিক হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :