চীন আমেরিকার ঠান্ডা যুদ্ধ এ বার এক নতুন মোড় নিচ্ছে ।

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:২৫ PM, ২২ জুলাই ২০২০

চীন-যুক্তরাষ্ট্র এই সেদিনও নিজেদের বলত ‘কৌশলগত বন্ধু’। ১৯৭১ সালে বেইজিং গিয়ে সে সময়ের ধুরন্ধর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার সেই ‘বন্ধুত্বে’র চারা লাগিয়ে এসেছিলেন। এত দিনে ভালোই বড় হয়েছে চারাটি। পাঁচ দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার এবং সেখান থেকে নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিজ্ঞান নতুন-চীনের ধাত্রী হিসেবে কাজ করেছে।

ট্রাম্প এই অধ্যায় শেষ করতে চান। তাঁর পাশে রয়েছেন চীন অ্যালার্জিতে ভোগা তিন সহযোগী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও, জাতীয় উপনিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাথিও পট্টিনজার এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নোভারো। ক্ষমতায় বসেই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী এই প্রশাসন কিসিঞ্জারের লাগানো বন্ধুবৃক্ষের ডালপালা কাটতে শুরু করে। একের পর এক আঘাতে বন্ধুত্বের বাঁধন ঢিলেঢালা হতে হতে এখন ছিঁড়তে বাকি। ফলে ঠান্ডাযুদ্ধ আর ঠান্ডা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বর্তমান দ্বন্দ্ব যেকোনো সিনিয়র সিটিজেনকে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কথা মনে করিয়ে দেবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মস্কো বিশ্বজুড়ে সাম্যবাদের জ্বালানি জোগাচ্ছিল। ওয়াশিংটন চেয়েছিল সেটা রুখতে। সেই ঠান্ডাযুদ্ধের ধরন ছিল আদর্শিক এবং রাজনৈতিক। বাণিজ্যে তার প্রভাব ছিল কম। পণ্য-বাজারে চীনের মতো আগ্রাসী কোনো শক্তি ছিল না রাশিয়ায়। উভয়ের উৎপাদন, বিপণনের বাজার ও পরিসর ছিল আলাদা। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে ব্যবসা-বাণিজ্যও ছিল উভয় দেশের পুরো বাণিজ্যের মাত্র ১ শতাংশ। ফলে ইতিহাসেরh সেই ঠান্ডাযুদ্ধে বিশ্ববাণিজ্য নিরাপদই ছিল বলা যায়।
কিন্তু বেইজিং-ওয়াশিংটন দ্বন্দ্বের শুরুই হয়েছে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে। অথচ উভয়ে তারা বিশ্ব-পুঁজিতন্ত্রের দুই প্রধান স্তম্ভ। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মাঝে বাণিজ্যের অঙ্ক ছিল ৭৩৭ বিলিয়ন ডলার। একই বছর চীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ছিল ১১৭ বিলিয়ন ডলার। এসব কিছুই এখন হুমকিতে।

২০১৯-এর শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের ক্ষতি প্রায় এক শ বিলিয়ন ডলার। প্রতিপক্ষের মতো বিপুল না হলেও যুক্তরাষ্ট্রেরও ক্ষতি কম নয়। যুদ্ধের ফল হিসেবে ইতিমধ্যে সেখানে ৩-৪ লাখ মানুষের চাকরি গেছে। এই বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে গত বছর বিশ্ব জিডিপির দশমিক ৫ ভাগ ক্ষয় হয়েছে। ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়বে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঠান্ডাযুদ্ধের অবস্থা থেকে বেশ গরম এখন। দুনিয়াজুড়ে আঁচ লাগছে তার। পত্রপত্রিকার জগৎ বহুদিনের জন্য এক ‘গরম আইটেম’ পেল।

আপনার মতামত লিখুন :