জলজ প্রাণীর দুর্দিন

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৩৯ PM, ২১ জুলাই ২০২০

পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একের পর এক মরে ভেসে উঠছে জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী। গত এক সপ্তাহে সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি তিমি ও ডলফিন মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে পটকাসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশি জাহাজ থেকে নির্গত পোড়া তেলে সমুদ্রের পানির দূষণকে দায়ী করেছেন। এদিকে, সমুদ্রতীরে জলজ প্রাণী মরে পড়ে থাকলেও এর দায় নিতে চাইছে না বন বিভাগ কিংবা মৎস্য বিভাগ।

বন বিভাগের কুয়াকাটাসংলগ্ন গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম রোববার বলেন, তিনি ঘটনাস্থল গঙ্গামতি তেত্রিশকানী এলাকার সাগরপাড়ে দুপুরে পরিদর্শন করে দেখে এসেছেন। সেখানে একটি তিমির অংশবিশেষ পড়ে আছে। তিনি বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন। তাকে জানানো হয়েছে যে এটি মৎস্য বিভাগ দেখবে। তা ছাড়া তারা ঢাকায় বন্যপ্রাণী শাখাকে অবহিত করার চেষ্টা করবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দু’দিনে কুয়াকাটা হোটেল সি ভিউ ও হোটেল কিংসসংলগ্ন সুমদ্রসৈকতে দুটি ডলফিন মরে পড়ে ছিল। ঢেউয়ের তোড়ে তীরে এসে পড়ে আছে। পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এগুলো। গত সপ্তাহে গঙ্গামতি তেত্রিশকানী এলাকাসংলগ্ন সাগরতীরে একটি তিমি ও দুটি ডলফিন মরে পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় কুকুর, শিয়াল সেগুলোর অধিকাংশই খেয়ে ফেলেছে।

সংশ্নিষ্ট এলাকার খুটা জেলে মানিক ও ইব্রাহীম বলেন, রামনাবাদ চ্যানেলের নদীর সংযোগস্থল ও সমুদ্রের মোহনায় অবাধ বিচরণ করে তিমি ও ডলফিন। জেলেদের জালে আটকা পড়ে এগুলো মারা যেতে পারে। তা ছাড়া সমুদ্রের এই পথ দিয়ে বিদেশি অনেক জাহাজ পায়রাবন্দরে যায়। ওইসব জাহাজের বর্জ্যের প্রভাবেও এগুলো মরতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :