ঢাকার নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত।

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:১১ PM, ২৪ জুলাই ২০২০

দেশের বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ এরমধ্যে ২৫ জন বন্যায় নিহত। দেশের মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা মানিকগঞ্জ, মাদারিপুর এবং রাজধানী ঢাকার নি্ম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে আগামী ৩ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।

বন্যা দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সরকারি ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় অনেক স্থানে বানভাসিরা ত্রাণ পাচ্ছে না। চরম দুর্ভোগে আছে বানভাসিরা। দেশের বন্যা পরিস্থিতি বিভিন্ন স্থানে অবনতি হয়েছে। পদ্মা, যমুনা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ অধিকাংশ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জামালপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ফরিদপুরে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, থাকা-খাওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে বানভাসিরা। পানি যত বাড়ছে বিভিন্ন স্থানে তত তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। জামালপুরে ঝারকাটা ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় সরিষাবাড়ী-কামরাবাদ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চলমান বন্যা এক মাস হতে চলল। এরই মধ্যে দেশের ২৬টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৩৫ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে বহু বাঁধ। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ক্ষেতের ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

ফরিদপুর থেকে নাজিম বকাউল জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। বর্তমানে ফরিদপুর জেলার সদরপুর, চরভদ্রাসন ও সদর উপজেলার শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ও বিস্তৃত হবে। এছাড়া ভারতের অরুনাচল, আসাম, মেঘালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে এবং বন্যার অবনতি হচ্ছে। ভারতীয় অংশের পানিতে দ্রæতই দেশের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

ভোলা থেকে মো.জহিরুল হক জানিয়েছেন, সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট হতে চর চটকিমারা খেয়ার ঘাট পর্যন্ত প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভাঙছে। নদী ভাঙনে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে ভেদুরিয়া এলাকা।

আপনার মতামত লিখুন :