ঢাকার পানি বাড়ছেই

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৪৭ PM, ২১ জুলাই ২০২০

ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও ঘাঘট নদীর পানি কয়েক দিন ধরেই কমছে বলে দাবি বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের। কিন্তু কুড়িগ্রামে প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন জনপদ প্লাবিত হওয়ার খবর আসছে। বানভাসি অনেকেই সমকালের কাছে ফোন করে বলেছেন, যে বাড়ির উঠান একদিন আগেও বন্যার পানির ওপরে ছিল, সেটি এখন প্লাবিত। যাদের ঘরে হাঁটু সমান পানি ছিল, সেখানে কোমর সমান। চিলমারী ও রৌমারীর গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বাড়ছে মানুষের হাহাকার। পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেট ও সুনামগঞ্জেও নদনদীতে পানি বাড়ছে। উজানে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া দপ্তর। এতে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে মধ্যাঞ্চলের জেলা রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ফরিদপুরে বাঁধ প্লাবিত হওয়া পাঁচ গ্রামে গতকাল সোমবার ত্রাণ বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক। এ ছাড়া ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ৯ ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

গতকাল সোমবার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ১৮টি জেলায় প্রায় ছয় লাখ পরিবারের অন্তত ৩০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উত্তরের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে এখনও বিপদসীমার ওপরে রয়েছে যমুনার পানি। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, কুশিয়ারা এবং শীতলক্ষ্যায়ও পানি বেড়েছে। বন্যার সঙ্গে অতিবর্ষণ যোগ হওয়ায় দ্রুত তলিয়ে গেছে ঢাকার নিম্নাঞ্চল। রাজধানীর কয়েকটি নিচু এলাকায় ইতোমধ্যে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানা গেছে। বন্যার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকার আশপাশে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :