থেমে গেছে সব প্রস্তুতি

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৫০ PM, ২৮ জুলাই ২০২০

 

সংখ্যায় তারা প্রায় ১৩ লাখ। গত ১ এপ্রিল থেকে তাদের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষা দিতে না পারায় এই বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রীর মানসিক অবস্থা এলোমেলো হয়ে গেছে। ক্ষুব্ধ ও বিরক্তও তারা।

করোনা পরিস্থিতিতে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা মার্চেই স্থগিত ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে টানা চার মাস বসে আছেন পরীক্ষার্থীরা। এ পরীক্ষার নতুন রুটিন করা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা যাচ্ছে না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক সমকালকে বলেন, কলেজগুলো খুলে দেওয়া হলেই এই রুটিন প্রকাশ করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় ছন্দপতন ও অনিশ্চয়তা তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাহরীমা শাম্মীর মা শাহমিকা শাহরিন অনামিকা বলেন, ‘মেয়ের জন্য পরীক্ষার আগে বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ে আলাদা শিক্ষক রেখেছিলাম। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের সব বিষয়ে পুরো প্রস্তুতি নেওয়ার পর পরীক্ষার আগমুহূর্তে কলেজগুলো বন্ধ হয়ে গেল। এরপরও লেখাপড়ায় ওর মনঃসংযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি কয়েক দফায় বাড়ানোর পর ও পড়াশোনাই ছেড়ে দিয়েছে। পড়তে বসতে বললেও রেগে যায়। সারাদিন মোবাইল ফোনে গেমস খেলে।’

তবে কভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে এইচএসসি পরীক্ষা-২০২০ হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ সিদ্ধান্তে দৃঢ় অবস্থানে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘করোনার মহামারি চলার সময় এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এককথায় অসম্ভব। লাখ লাখ শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশব্যাপী পরীক্ষার সময় সংগত কারণেই একত্র হবেন, ভিড় জমাবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও বিপুল সদস্য মোতায়েন করতে হবে। এ ধরনের বিপুল লোকসমাগমে আরও বেশি লোকের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে এইচএসসি পরীক্ষা হবে না। আমাদের সন্তানদের আমরা নূ্যনতম ঝুঁকির মধ্যেও ফেলতে পারব না।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। তবে সব প্রস্তুতি আছে- কলেজগুলো খুলে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া যাবে।

শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সময়সীমা কমিয়ে আনা হবে। দেড় মাসের বদলে এটি এক মাসের মধ্যে শেষ করা হতে পারে। এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি থেকে এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :