পৃথিবী অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:১৯ AM, ২২ জুলাই ২০২০

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার ‘দুর্মর’ কবিতায় বাংলাদেশেকে তুলে ধরেছেন এভাবে- ‘সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী/অবাক তাকিয়ে রয়ঃ/জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার/ তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ কবি তার এ কথার দ্বারা এক সাহসী, প্রতিবাদী, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার বাংলাদেশকেই বোঝাতে চেয়েছেন। বস্তুত সেই প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশ পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। এই ভূখণ্ডের মানুষদের সংগ্রামমুখর জীবন, মাথা উঁচু করে বাঁচার প্রত্যয়ে জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য বানিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় পদক্ষেপ বিশ্বকে সময়ে সময়ে বিস্ময়ে হতবাক করে দিয়েছে। এ উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, তেমনি এখানে জন্ম নিয়েছেন বহু বিশ্ববরেণ্য মানবসন্তান।

মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজনে সুদূর চীন দেশে যাও।’ তার চারশ’ বছর পরে বাংলাদেশের এক সন্তান শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর সুদূর তিব্বতে গিয়েছিলেন শিক্ষাগুরু হিসেবে জ্ঞান বিতরণের উদ্দেশ্যে। আমাদের কীর্তিমান পূর্বপুরুষ স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুও বিশ্বকে বিস্ময়ে হতবাক করে দিয়েছিলেন উদ্ভিদের জীবনতত্ত্ব এবং বেতারযন্ত্র আবিস্কার করে। আমাদের বুয়েট থেকে পাস করা স্থপতি ফজলুর রহমান খানের নকশা ও তত্ত্বাবধানে আমেরিকার শিকাগো শহরে ১৯৭৩ সালে নির্মিত হয়েছিল তৎকালীন বিশ্বের সর্বোচ্চ অফিস ভবন ‘উইলিস টাওয়ার’ যা ‘সিয়ার্স টাওয়ার’ নামে সুপরিচিত। ১১০ তলা বিশিষ্ট ১৪৫০ ফুট উচ্চতার ওই ভবনের দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে সে সময় বিশ্ববাসীর নিশ্চয়ই বাংলাদেশের কথা মনে পড়ে থাকবে। স্থপতি ফজলুর রহমান খানের সে কীর্তি আজও বাংলাদেশের গৌরবের পতাকা উড্ডীন করে রেখেছে। সাঁতারু ব্রজেন দাশ ১৯৫৮ সালে ২৯ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে যখন ইংলিশ চ্যানেল পার হলেন, বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের দিকে। আর ভেবেছে কী আছে ওই ছোট্ট দেশটির মাটিতে!

আপনার মতামত লিখুন :