বন্যায় মাদারীপুরের ৩২৯৭ টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:১৯ PM, ১৯ অগাস্ট ২০২০

 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে মাদারীপুরের শিবচর, সদর, রাজৈর ও কালকিনি উপজেলার ৩ হাজার ৩৫ জন কৃষকের মোট ৩ হাজার ২৯৭টি পুকুর তলিয়ে গেছে। এসব পুকুর ৪০৪ হেক্টর জমিতে তৈরি করেছিল কৃষক।

পানিতে ভেসে গেছে এক হাজার মেট্রিক টন মাছ এবং ২৪ থেকে ২৫ লাখ পোনা। জেলা মৎস্য অফিস গত ৯ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রথমিক তথ্য সংগ্রহ করে মৎস্য অধিদপ্তর ঢাকায় পাঠিয়েছে।

সদর উপজেলার পূর্ব কলাগাছিয়া গ্রামের মৎস্যচাষি সাজ্জাত মোলস্না বলেন, নিজের ১০ একর জমির ওপর একটি বড় ঘের আছে। এ বছর ৬ একর জমি লিজ নিয়ে আরেকটি নতুন ঘের করেন। এ ঘেরটি প্রতি বছর ৩ লাখ টাকা দিতে হবে জমির মালিককে।

মাদারীপুরের চারটি উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার ৩ হাজার ২৯৭টি পুকুর তলিয়ে গেছে পানিতে। এর ফলে বেশির ভাগ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক।

বন্যার পানিতে কৃষকের ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

বৈশাখ মাসে প্রথম মাছ ছাড়েন। নতুন ঘেরের সব মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চরখাগদি এলাকার মৎস্যচাষি এনায়েত বেপারী জানান, দুই বছর আগে ১৯৬ শতাংশ অন্যের জমি লিজ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় ৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ঘের তৈরি করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেন।

গত ২৮ জুলাই রাতে আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড় ভেঙে বন্যার পানিতে পুরো ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে যায়। এই ঘেরে প্রথম থেকেই প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করত এবং প্রতিদিন ৫-৬ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে আসছে। তাদেরও বেতন বন্ধ হয়েছে। এখন তিনি সবকিছু হারিয়ে পথে বসেছেন। এতে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :