বাঁচতে হবে প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৫৮ AM, ২২ জুলাই ২০২০

গত তিন থেকে চারশ’ বছরের নগরায়ণ ও শিল্পায়নের মধ্য দিয়ে পরিবেশের প্রতি ভয়াবহ যেসব বিপদ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে আছে- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, গ্রিন হাউস এফেক্ট, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ওজন লেয়ারের নিঃশেষীকরণ, বন উজাড়ীকরণ, ও জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস সাধন।

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ এবং নিজেদের আরাম-আয়েশের পাকা বন্দোবস্ত করতে গিয়ে একের পর এক বিপ্লব হয়ে গেছে- প্রথম শিল্পবিপ্লব, দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব, তৃতীয় শিল্পবিপ্লব ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। স্টিম ইঞ্জিন আবিস্কারের মধ্য দিয়ে সূচিত হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব; বিদ্যুতের আবিস্কার ও উৎপাদন এবং কলকারখানার মাধ্যমে ব্যাপক উৎপাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব; তথ্যপ্রযুক্তি ও অটোমেশনের মধ্য দিয়ে মানুষের সভ্যতায় আবির্ভাব ঘটল তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের এবং সর্বশেষ সাইবার ফিসক্যাল সিস্টেমের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার এবং তার হাত ধরে যে ধারাবাহিক শিল্পবিপ্লবগুলো, নিঃসন্দেহে সেটি মানব সভ্যতার এক অনন্য অর্জন। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আমরা ব্যবহার করছি মানুষের আরাম-আয়েশ ও ভোগকে নিরঙ্কুশ করার জন্য।

পুঁজিবাদের পুঁজি ও মুনাফা ভোগবাদের যে দৈত্যকে উস্কে দিয়েছে, তাতে মানুষের লোভ গেছে বেড়ে, তৈরি হয়েছে নানা কৃত্রিম চাহিদা, ভোগ হয়ে গেছে বল্কগ্দাহীন। উদ্ভিদজগৎ, প্রািণজগৎ, খাল-বিল-নদী-ফুল-পাখি, সমুদ্রের রহস্যময় তলদেশ ও নভোমণ্ডলীর সমন্বয়ে সৃষ্টিকর্তা নিপুণ কুশলতায় যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন, তার কল্যাণ নিশ্চিত করা ও ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি না; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহূত হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য। শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও উন্নয়নের ‘বাই-প্রডাক্ট’ হচ্ছে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, মাটিদূষণ, পৃথিবীর গড়পড়তা উষ্ণতা বেড়ে যাওয়া ও জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস।

সপ্তদশ শতাব্দী থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো, ব্রিটেন ও উত্তর আমেরিকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার এবং শিল্পবিপ্লবের সুবাদে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়েছে, গড়ে উঠেছে চোখ ধাঁধানো উন্নত সব নগর। এভাবে ইউরোপ ও আমেরিকা সারাবিশ্বের সামনে উন্নয়নের একটি ‘রোল মডেল’ স্থাপন করেছে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে এশিয়া, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলো উন্নয়নের জন্য উন্মাদ হয়ে উঠেছে। নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও উন্নয়নের জন্য যে মনুষ্য-উন্মত্ততা তার অভিঘাত গিয়ে পড়েছে প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপরে। বন উজাড় করে, পাহাড় কেটে, নদীনালা ও খালবিল ভরাট করে, উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে দেশে দেশে উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে; আর পরিবেশ ও প্রকৃতি এই চাপ সহ্য করতে না পেরে সুযোগ পেলেই প্রতিশোধ নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :