মা আর নেই

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৪৫ PM, ২৩ জুলাই ২০২০

ভাইবোনদের কাছে প্রিয়পাত্র ছিলেন তিনি। আমাদের মধ্যে যা কিছু ভালো তা মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি। আতিথেয়তায় মা ছিলেন অতুলনীয়। যখন আমার দুই ভাই মিলে ব্যান্ড শুরু করি, তখন বাসাতেই চর্চা হতো। দলের অন্য বন্ধুরা বাসায় আসতেন। মা আমাদের সবাইকে একসঙ্গে চা-নাশতা খাওয়াতেন।

আমাদের তিন ভাইয়ের মধ্যে শাফিন [শাফিন আহমেদ] খুব ভাগ্যবান, কলকাতায় কলামন্দিরে মায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে গান করেছে সে। ‘সুরের ছায়া, চাঁদের দেশে’ এ গানটি মা উর্দুতে গাইলেন, আর শাফিন শোনায় বাংলায়। আমি মায়ের সঙ্গে গান না গাইলেও তার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার এক অনুষ্ঠানে বাজিয়েছি। মাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল সেখানে। মায়ের কাছ থেকে আমি নজরুলসংগীত শিখেছি। অনেকেই হয়তো জানেন না, আমার শৈশব-কৈশোরের দীর্ঘ সময় নজরুলসংগীত সাধনায় কেটেছে।

ছোটবেলা থেকে মা-বাবাকে গান করতে দেখে গানের নেশা পেয়ে বসেছিল আমাকেও। স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমি ‘গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ’ করেছি। মা আমাকে গানটি তুলে দিয়েছিলেন। নজরুলসংগীত চর্চা, গানের জগতে ক্যারিয়ার আর পরিবার- সবই সমান তালে এগিয়ে নিয়েছেন মা।

বছর ঘুরে আবারও এলো মায়ের জন্মদিন। তিনি বেঁচে থাকলে আগামী ২৮ জুলাই ৯৪ বছরে পা রাখতেন। আর বাবা কমল দাশগুপ্তর জন্মদিনও একই দিনে। যেজন্য এই দিনটি আমাদের জন্য অন্যরকম একদিন। মায়ের জন্মদিন সবসময় ঘটা করেই পালন হতো। মামা-খালারা বড় করে জন্মদিন পালন করতেন। এ বিশেষ দিনে মা দেশ ও দেশের বাইরের প্রচুর ফোন পেতেন। সারাদিনই ব্যস্ত সময় কাটাতেন। মায়ের গানের শিক্ষার্থীরা আসতেন। তারা গান করত। খাওয়া-দাওয়া, বিশাল হইহুল্লোড় হতো। আমি তখন অনেক ছোট, একবার কলকাতায় মা-বাবার জন্মদিন উপযাপন হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, নির্মলা মিত্র, প্রণব রায়,সব্যসাচী, শ্যামল মিত্রসহ অনেক গুণী মানুষ হাজির হয়েছিলেন। মায়ের নিরন্তন সাধনা আমাদের সংগীত জীবনকে আলোকিত করেছে। মায়ের ছায়ায় আমরা বেড়ে উঠেছি। আজ মা নেই, কিন্তু আছে মায়ের ছায়া।

আপনার মতামত লিখুন :