রাজধানীতে জলবদ্ধতা

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:২১ PM, ২২ জুলাই ২০২০

গত দু’দিনও রাজধানীতে একই দৃশ্য। গত সোমবার ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই তলিয়ে গেছে অনেক এলাকা। গতকাল মঙ্গলবারও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। রাজপথ ডুবেছে। প্রধান সড়কগুলোয় পানির ঢেউ খেলে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন নাগরিকরা। নগরজীবনে নেমে এসেছে তীব্র ভোগান্তি। শুধু এই বর্ষা মৌসুম নয়, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঢাকা মহানগরে জলজটের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সবাইকে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, প্রথমত, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব একটি স্বতন্ত্র সংস্থাকে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। যার আলোকে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্ত করা যাবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে খালগুলো পুনরুদ্ধার করে খনন করে প্রতিটি খালের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

আরও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা :গত সোমবার তিন ঘণ্টায় মাত্র ৬৩ মিলিমিটার ও গতকাল মঙ্গলবার থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিপাতেই রাজপথ তলিয়ে যাওয়ার অবস্থা হলো কেন- সে সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল, এবার জলাবদ্ধতার মাত্রা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ মেট্রোরেলসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখন বেহাল। অন্যদিকে পানি নিস্কাশনের প্রধান মাধ্যম ড্রেনের দায়দায়িত্ব নিয়ে রশি টানাটানি চলছে সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে। ওয়াসা অনেক আগে থেকেই বলছে, ড্রেন দেখভালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। ফলে তারা ড্রেন ও বক্স-কালভার্ট পরিস্কার করার উদ্যোগই নেয়নি। খালের ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই কাহিনি।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা সংক্রান্ত গবেষণায় যুক্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘সিপ’-এর দুর্যোগ সহনশীল ঢাকা কর্মসূচি প্রকল্পের সমন্বয়ক সাইফুন নাহার সমকালকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার মতো বড় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসার যেভাবে যৌথ প্রকল্প নেওয়া দরকার, তেমনটি এখনও হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।

আপনার মতামত লিখুন :