রাশিয়া-জার্মানি দ্বন্ধ

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:০১ PM, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপর ক্ষুব্ধ জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল বলেন, “পুতিন যে ভাষা বোঝেন। আমরা সেই ভাষায় কথা বলছি। নাভালনির উপর নার্ভ এজেন্ট কেন প্রয়োগ করা হয়েছে তার জবাবদিহি করতে হবে পুতিনকে। এর প্রতিবাদে আমরা রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প স্থগিত রাখার বা বাতিল করার কথা ভাবছি।”

মের্কেলের এই বিবৃতিতে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে ইউরোপের রাজনীতিতে। নরম সুরে রাশিয়া বিবৃতি দিয়েছে, “নাভালনির অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট পুতিন কোনওভাবেই জড়িত নন। সন্দেহের বশে পুতিনের উপর মিথ্যে দায় চাপাচ্ছেন চ্যান্সেলর মের্কেল। তাছাড়া গ্যাস পাইপলাইনের মতো অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে এই রাজনৈতিক ঘটনার কোনও তুলনা বা যোগ টানা যেতে পারে না।” যদিও রাশিয়ার বিবৃতি খারিজ করে জার্মানি জানিয়েছে, নাভালনি কোমাচ্ছন্ন এবং গুরুতর অসুস্থ। কিন্তু পাইপলাইন প্রকল্প স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে জার্মানি। বুধবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেলের মুখপাত্র স্টিফেন সেইবার্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নাভালনির শরীর থেকে নেওয়া একাধিক নমুনায় সোভিয়েত জমানার রাসায়নিক হাতিয়ার নার্ভ এজেন্ট নভিচক–এর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। জার্মান সেনার একটি গবেষণাগারে ওই স্যাম্পলগুলি বারবার পরীক্ষা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। তার মানে ইঞ্জেকশন বা খাবারের সঙ্গে মারাত্মক শক্তিশালী ওষুধ নভিচক দিয়ে অসুস্থ করে দেওয়া হয় নাভালনিকে। নাভালনির উপর এহেন হামলা খুবই ন্যক্কারজনক। আমরা এই ঘটনার তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” এর পর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে বহু কোটি ডলারের গ্যাস পাইপলাইনের মতো যৌথ প্রকল্প বাতিল করার দাবি জানাতে থাকেন জার্মান এমপি’রা।

ক্রেমলিনের প্রবল সমালোচক তথা পুতিন বিরোধী নাভালনির উপর এর আগেও বিষপ্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। ২০১১ সালে ‘Anti-Corruption Foundation’ নামের একটি দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন নাভালনি। রুশ প্রশাসনে ভয়ানক দুর্নীতি তথা প্রেসিডেন্ট পুতিনের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে তাঁর সংস্থাটি। ফলে বিরোধীদের অভিযোগ, স্বাভাবিকভাবেই শাসনতন্ত্রের নিশানায় রয়েছেন নাভালনি।

উল্লেখ্য, গত ২০ তারিখ সাইবেরিয়ার টমস্ক থেকে বিমানে মস্কো ফিরছিলেন নাভালনি। মাঝ আকাশে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। উপায় না দেখে ওমস্ক শহরে বিমানের জরুরি অবতরণ করিয়ে শুরু হয় চিকিৎসা। নাভালনি ঘনিষ্ঠদের প্রাথমিক ধারণা, টমস্ক বিমানবন্দরে তাঁর চায়ে বিষ মেশানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, নাভালনির স্নায়ুতন্ত্র ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছিল। কোমায় আচ্ছন্ন হন তিনি। সেটা বিষের প্রভাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। এরপর নাভালনির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকায় জার্মানির বার্লিনে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষানিরীক্ষার পর বিষ প্রয়োগের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থার অবনতি না হলেও এখনও গভীর কোমায় আছন্ন রয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :