লেবাননের জোড়া বিস্ফোরণে বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ১৩৫ জনের মৃত্যু।

Samia RahmanSamia Rahman
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৫ PM, ০৬ অগাস্ট ২০২০

 

মঙ্গলবারের ওই বিস্ফোরণে শহর কেঁপে ওঠে ও বৈরুতের উপকণ্ঠ পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, জরুরি শ্রমিকরা বেঁচে থাকাদের সন্ধানে ধ্বংসস্ত‚পে খোঁড়াখুঁড়ি করায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

নিহতদের মধ্যে মিজান ও মেহেদি হাসান নামের দুই প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দরে থাকা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস বিজয়। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মেরিটাইম টাস্কফোর্সের অধীনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান বলেছেন, অত্যন্ত বিস্ফোরক রাসায়নিক পদার্থের গুদামে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব একে বিপর্যয় বলে বর্ণনা করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন।

বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত চলছে। দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলেছে দেশটির সুপ্রিম প্রতিরক্ষা পরিষদ। জরুরি তহবিল থেকে ১ বিলিয়ন লিরা বরাদ্দের ঘোষণাও দিয়েছেন লেবানিজ প্রেসিডেন্ট। গতকাল থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে দেশটিতে।

লেবাননের মন্ত্রিসভা বন্দর কর্মকর্তাদের তদন্তে দোষী ব্যক্তি চিহ্নিত হওয়া অবধি গৃহবন্দি করে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন জানান, ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা একটি ওয়্যারহাউজে দুই হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অনিরাপদ অবস্থায় মজুদ ছিল, যা থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, কোন গুদামে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মত বিস্ফোরক অনিরাপদভাবে মজুত রাখার বিষয়টি ‘অগ্রহণযোগ্য’। প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সভাপতিত্বে সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গুরুতর নৌসদস্যকে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অভ বৈরুত মেডিক্যাল সেন্টার এইউবিএমসি-এ ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের ইউনিফিলের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হেলিকপ্টার/অ্যাম্বুলেন্সযোগে হামুদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত।

আপনার মতামত লিখুন :